সাপ্তা‌হিক পুঁজিবাজার

বীমা খাতে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার লেনদেন

গত সপ্তা‌হের পাঁচ কার্যদিব‌সে দে‌শের পুঁজিবাজা‌রে সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমু‌খিতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

এ সময় প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্স‌চে‌ঞ্জের (ডিএসই) সা‌র্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৬ শতাংশ। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির লেনদেন বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার কারণে গত সপ্তাহে সাধারণ বীমা খাতে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা পুঁজিবাজারের মোট লেনদেনের ২০ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তা‌হে সূচক ও লেন‌দে‌ন বে‌ড়ে‌ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪৫ পয়েন্ট বে‌ড়ে ৫ হাজার ৫২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ পয়েন্ট বে‌ড়ে ২ হাজার ৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৬৮ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১০৯ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৩টির, কমেছে ১৭৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির। আর লেনদেন হয়নি ২৬টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থা‌নে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে স্কয়ার ফার্মা, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, গ্রামীণফোন, আইপিডিসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, রেনাটা ও এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৮৭ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ১৫৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বেঞ্চমার্ক সূচকটি টানা চতুর্থ সপ্তাহেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে। মাঝেমধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার চাপ থাকলেও নবনিযুক্ত বিএসইসি কমিশনের অধীনে গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং জাতীয় বাজেটে বাজারমুখী পদক্ষেপের সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ছিল ইতিবাচক। সপ্তাহের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়, যেখানে টানা দশ দিন ধরে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। নীতিগতভাবে অনুকূল পরিবর্তনের প্রত্যাশায় দীর্ঘদিনের দরপতনের শিকার শেয়ারগুলোতে ব্যাপক ক্রয়ের ফলে এ উত্থান ঘটে। তবে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেয়ায় প্রাক-বাজেট সতর্কতার কারণে বাজারে স্বল্পমেয়াদি সংশোধন দেখা দেয়, যা সামগ্রিক লেনদেনে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে সাধারণ বীমা খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। ১২ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশ‌মিক ৬ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা খাতে। এছাড়া সিরামিক খাতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাতে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খা‌তে ৪ দশ‌মিক ৫ শতাংশ এবং জীবন বীমা খা‌তে ৪ দশ‌মিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ব্যাংক খাতে দশমিক ২ শতাংশ, খাদ্য খাতে দশমিক ৩ শতাংশ, সিমেন্ট খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশ‌মিক ৪৭ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ১৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ২৬৮ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশ‌মিক ৬৬ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৩২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৩৮২ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৮৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৩৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৪টির, কমেছে ১১৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির বাজারদর।

আরও